প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মরণঘাতী অস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (১০ মে, ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যকার একটি কথোপকথন উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়:
‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।’
একজন সরকারপ্রধানের এমন অমানবিক নির্দেশনা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলে সারাদেশে হাজারো প্রাণহানি ঘটে বলে উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১৮ ও ১৯ জুলাই ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
নির্মমতা: চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, কিশোর ফাইয়াজকে হত্যার নির্মম চিত্র পুরো বাংলাদেশকে আবেগাপ্লুত করেছিল।
অভিযোগের ধরন: মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি (উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়), ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি (ব্যক্তিগত দায়) ও টার্গেটেড কিলিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরবর্তী ধাপ: আগামী ৮ জুন থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই বারবার দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সময় ব্রিটিশ শাসকরা ‘শুট অন সাইট’ বা সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়ে আন্দোলন দমন করত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা সেই ঔপনিবেশিক বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার মূলে ছিল মানুষের জীবনের নিরাপত্তা। তবে পরবর্তীকালে স্বৈরাচারী শাসনগুলো ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে, যার বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে পুনরায় গণঅভ্যুত্থান ঘটে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর সংস্কার: দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা একটি নজিরবিহীন বিপ্লব সংঘটিত করে। ২০২৬ সালের বর্তমান ‘নতুন বাংলাদেশ’ সেই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানই হয়েছে যখন শাসকগোষ্ঠী জনগণের ওপর মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মতো অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়াটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা।
সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সংবাদ সম্মেলন (১০ মে, ২০২৬)।
২. মোহাম্মদপুর হত্যা মামলার চার্জশিট ও ট্রাইব্যুনালের আদেশ।
৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |